হোম > অর্থনীতি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম ফের ১০৮ ডলারে, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের (বা অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের) দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে উঠে যায়। গত মে মাসের পর এই প্রথম ব্রেন্টের দাম ১০৮ ডলারে পৌঁছাল। ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই তেলের দাম বেড়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে লড়াই তীব্র হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের ওপর হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমে দিনশেষে ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলারে স্থির হয়। দিনের হিসাবে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত ১৯ মের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ দাম। একই সঙ্গে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এক দিনে ব্রেন্টের সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধিও এটি।

যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও একপর্যায়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে পৌঁছায়। মে মাসের পর এই প্রথম মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৩ ডলারে উঠল। পরে কিছুটা কমে দিনশেষে ১০২ দশমিক ৪৮ ডলারে স্থির হয়। দিনের হিসাবে দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। গত ১৯ মের পর এটিই মার্কিন অপরিশোধিত তেলের সর্বোচ্চ সমাপনী দাম। একই সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে এক দিনে এটির সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধিও এটি।

আবারও সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষণী সংস্থা ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের ডেপুটি চিফ ইমার্জিং মার্কেটস ইকোনমিস্ট জেসন টুভে এক নোটে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে এবং হুতিদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করছে যে, ইরান ও তার মিত্ররা যুদ্ধে আবারও উদ্যোগ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

টুভে বলেন, ‘এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।’

যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি জানিয়েছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে তারা আর আশা করছে না। প্রতিষ্ঠানটি এখন আর ধরে নিচ্ছে না যে যুদ্ধের একটি নিশ্চিত সমাপ্তি হবে কিংবা ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

এসঅ্যান্ডপি এখন ধারণা করছে, আগামী বছরজুড়েও তেলের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে এবং ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।

এর বিপরীতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার রাতে দ্রুত সস্তা জ্বালানির পরিস্থিতি ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘৩ নভেম্বরের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের পরপরই দাম ব্যাপকভাবে কমে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।’

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির ক্রুড অয়েল গবেষণার বৈশ্বিক প্রধান জিম বার্কহার্ড বলেন, বাজার ‘শান্ত অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে না।’ বার্কহার্ড ওই প্রতিবেদনে বলেন, ‘অমীমাংসিত সংঘাত এবং সমুদ্রপথে অব্যাহত ঝুঁকি যে নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, বাজার এখন তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।’