বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪ হাজার ১৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ হাজার ৮৬৮ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সাবিকুন্নাহারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তালিকা সংসদে তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই ঘাটতি কমিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আরও আটটি খাত—চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ জারি করেছে।
সংরক্ষিত আসনের নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা হারানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ভারতের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জন কিংবা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সম্প্রতি চীন তাদের ট্যারিফ লাইনের ৯৯ শতাংশ পণ্যে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার-সুবিধা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সরকার আশা করছে।