প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘিরে ইস্পাত বাজারে তৈরি হয়েছে দামের নতুন চাপ। উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব সামনে আসার পর থেকে দেশে রডের বাজারে ধাপে ধাপে দাম বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, টনপ্রতি রডের দাম ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। তাঁরা দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম ও ঢাকার বাজারে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৭৫ গ্রেডের এমএস রড মিলগেট পর্যায়ে টনপ্রতি ৯০ হাজার থেকে ৯২ হাজার টাকার স্থলে উঠেছে ৯২ হাজার থেকে ৯৪ হাজার টাকায়। বৃহস্পতিবারের বাজারে বিএসআরএমের রড বিক্রি হয়েছে ৯৪ হাজার টাকায়, কেএসআরএম ৯২ হাজার ৫০০ টাকা এবং জিপিএইচ ও একেএস ৯২ হাজার টাকায়।
একই সময়ে ৬০ গ্রেডের রডের দামও টনপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বেড়ে ৮৮ হাজার থেকে ৮৯ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। বাজারে আল আকসা, মুনতাহা, কদমতলী, ডিএসআরএম ও জেএসআরএম ব্র্যান্ডের রড বিক্রি হচ্ছে ৮৮ হাজার ৫০০ টাকার আশপাশে। তুলনামূলক কম দামের ব্র্যান্ডগুলো ৮৮ হাজার টাকার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বাজারে অস্থিরতার পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইস্পাত খাতের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট-কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবকে। বাজেটে ফেরো অ্যালয়, স্ক্র্যাপ, বিলেট, ইনগট ও এমএস রড উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে নির্দিষ্ট ভ্যাট বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ধাপে ভ্যাট ২ হাজার ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এদিকে বাজেট ঘোষণার পরই বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন দর কার্যকর করতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ এলাকার রড ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন বলেন, বাজেট প্রস্তাবের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় কোম্পানিগুলো নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করেছে। তাঁর মতে, শুধু বড় ব্র্যান্ড নয়, মাঝারি ও ছোট মিলগুলোর রডের দামও সমানভাবে বাড়ছে। তিনি আশঙ্কা করেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সামনে আরও মূল্যবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ভ্যাট নয়, একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক এবং বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধিও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সম্মিলিত প্রভাব বাজারে ধীরে ধীরে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বিএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত জানান, আগে প্রতি টন রডে গড়ে ২ হাজার ৭০০ টাকা ভ্যাট ছিল, যা নতুন প্রস্তাবে ৩ হাজার ৪০০ টাকায় উন্নীত হবে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী শুধু ভ্যাটেই টনপ্রতি ৭০০ টাকা বাড়তি খরচ তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট উৎপাদন ব্যয় টনপ্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) বলছে, বিদ্যুৎ, কেমিক্যাল ও রিফ্র্যাক্টরি সামগ্রীর দাম বৃদ্ধিসহ সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় টনপ্রতি ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে চাহিদা কম থাকায় পুরো চাপ বাজারে একসঙ্গে পড়ছে না।
মেট্রোসেম ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ জানান, বর্তমানে আবাসন খাতের মন্দা এবং সরকারি প্রকল্পের ধীরগতির কারণে রডের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে উৎপাদকেরা পুরো ব্যয় একবারে বাজারে সমন্বয় করতে পারছেন না।