সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে আবেদন নেওয়া শুরু করছে। গত মঙ্গলবার থেকে আবেদন শুরুর পর আজ রোববার পর্যন্ত ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় জমা টাকা তোলার আবেদন জমা পড়েছে ৭৪ হাজার ২২১টি। সেই হিসাবে মাত্র চার কার্যদিবসে জমা পড়া এসব আবেদনের বিপরীতে মোট টাকার চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
যাচাই-বাছাই শেষে আগামীকাল সোমবার থেকে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ শুরু করার কথা রয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত দুই শ্রেণির আমানতকারীরা টাকা তোলার আবেদন করেছেন। যাঁদের চিকিৎসাসহ খুব জরুরি প্রয়োজন আর যাঁরা ব্যাংকটিতে আস্থা রাখতে পারছেন না। কেবল তাঁরাই মুনাফা ছাড়া মূল টাকা তোলার আবেদন করেছেন। আর সবচেয়ে বড় অংশের লোকজন ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন না। তাঁরা ব্যাংকটিতে আস্থা রাখতে চাচ্ছেন। এটিই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মূল আস্থার জায়গা।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে গত মঙ্গলবার আবেদন জমা পড়েছে ১৮ হাজার ৪৬টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় দিনে (বুধবার) আবেদন জমা পড়েছে ১৯ হাজার ৬১৩টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা। তৃতীয় দিনে (বৃহস্পতিবার) আবেদন জমা পড়েছে ২১ হাজার ৮৬টি, এর বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ছিল ৯২৩ কোটি টাকা। আর আজ শেষ দিনে আবেদন জমা পড়ে মাত্র ১৫ হাজার ৪৭৬টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা রয়েছে ৬৫৭ কোটি টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে চার কার্যদিবসে ব্যাংকটিতে মোট ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে; যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা তাঁদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না, তাঁরা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সামগ্রিক বিষয়ে আজ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘৮৪ লাখ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৭৪ হাজার ২২১ জন অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছেন। যাঁরা একবারে পুরো আসল টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন। এই সংখ্যা মোট আমানতকারীর তুলনায় খুবই কম। তাতে বোঝা যাচ্ছে, এখনো মানুষের যথেষ্ট আস্থা আছে আমাদের ওপর।’
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ‘সংকটাপন্ন’ উল্লেখ করে পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। মালিকানা নেওয়া হয় সরকারের হাতে। ৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন নিয়ে যাত্রা করা নতুন এ ব্যাংকে সরকার ইতিমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিয়েছে।