হোম > অর্থনীতি

অসুস্থ অর্থনীতিকে সুস্থ করতে পারলে বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রেসক্লাবে জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ ‘প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

অসুস্থ অর্থনীতিকে সুস্থ করতে পারলেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের বাজেটের যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা তা অর্জন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিব মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ ‘প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ‘এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাধা কথা শব্দটা এইজন্যই বলতে চাচ্ছি যে, জনগণের কাছ থেকে অর্থনীতির রেভিনিউটা নেব বা পাব সেই অর্থনীতি তো অসুস্থ অর্থনীতি। যদি আপনি (সরকার) সুস্থ করেন, আপনি রেভিনিউ পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আগে ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বড় রেভিনিউ আসত। সেই ব্যাংকিং খাত শেষ। পুঁজিবাজারও সংকটে রয়েছে। এমনকি বেসরকারি খাতকে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও কমে গেছে। সরকার নিজেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ব্যাপক হারে ঋণ নিচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় ঋণ দিতে পারছে না।’

আবদুল মজিদ বলেন, ‘অর্থনীতির এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে। ওই সব জায়গাগুলোকে যদি আপনি ঠিক করেন, অর্থনীতি যদি সচল হয়, তাহলে রেভিনিউ আসবে। সরকার অর্থনীতি সচল না করে, নিজের সমালোচনার দিকে খেয়াল না করলে, আপনি নিজের ভূমিকাতে আপনি যদি স্ট্রং (শক্ত) না থাকেন, প্রকাশ্য স্ট্রং উইল না থাকেন, তাহলে শুধু এনবিআরের ওপরে চাপ দিয়ে কি লাভ? এনবিআর কিভাবে রাজস্ব পাবে? শুধু এনবিআরের ওপর দায় চাপিয়ে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়।’

অতীতে একটা ছন্নছাড়া অর্থবছর ছিল বলে মন্তব্য করে সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ১৫ বছর বা তার আগের ১৫ বছরও ছন্নছাড়া অর্থনীতি ছিল। যেখানে সম্পদ শেষ হয়ে গেছে, অর্থ পাচার হয়ে গেছে, পুঁজিবাজার শেষ হয়ে গেছে। ব্যাংকিং খাত শেষ হয়ে গেছে। যেসব জায়গা থেকেই রেভিনিউ আসে, সেইগুলোই শেষ হয়ে আছে। সে জন্য এই জুনের ১৮ তারিখ পর্যন্ত রেভিনিউ আর্নিং আসলে যথাস্থানে আসেনি। কারণ আমার অর্থনীতি দুর্বল ছিল।’

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। আর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত কর খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত রাজস্ব খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গ টেনে এনবিআর এর সাবেক এই চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ‘এনবিআরের পরে আরও দুটো বিষয় আছে। একটা হচ্ছে নন-এনবিআর কর আর দুই নম্বর হলো নন-ট্যাক্স রেভিনিউ। এই দুটোও একটা বড় অংশ। কিন্তু আমরা সব সময় লক্ষ্য করছি যে, এই দুই জায়গায় আপনার বাজেট বাড়ানো হয়নি। লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়নি। এখানে যেহেতু কম, সেহেতু অঙ্কের হিসাবে এনবিআরের ঘাড়ে বেশি পড়ে যাচ্ছে। এখানে প্রশ্ন বা বিষয় দেখার বিষয় হচ্ছে, এই দুটো বিষয়ে সরকারের জোর দেওয়া বা খেয়াল রাখা উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে বাজেট নিয়ে আরও আলোচনা করেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) সভাপতি হয়েছেন লুতফুন নিসা সৌদীয়া খান, আইবিএফবির গভর্নমেন্ট রিলেশন ও অ্যাডভোকেসি কমিটির চেয়ারম্যান এম. এস. সিদ্দিকী, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ এর ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশীদ এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ সহসভাপতি (অর্থ) ইঞ্জিনিয়ার উৎপল কুমার দাস।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

ব্র্যাক ব্যাংক ও ভিশনস্প্রিংয়ের উদ্যোগে ৬০ হাজার মানুষ পাবে বিনা মূল্যে চোখের চিকিৎসা

আধুনিক স্বাদে দেশি টুইস্ট, কেএফসি নিয়ে এল ‘কারি ক্রাঞ্চ’

ভ্যাটসহ সোনার দাম নির্ধারণ, ভরিতে কমল ৯ হাজার টাকা

বিশ্ববাজারে আবার কমল তেলের দাম, চাঙা এশিয়ার শেয়ারবাজার

রাজস্ব লক্ষ্যে ভুল পথে সরকার

রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে নিলামে বিক্রি হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট ও এক্সপ্রেস ইউনিটের পণ্য

তামাকজাত পণ্যের ওপর আরোপিত কর রাজস্ব বৃদ্ধি পূরণে যথেষ্ট নয়

ফিচ রেটিংসের প্রতিবেদন: বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

বাজেটে প্রস্তাব: বিনিয়োগের আবেদনে দপ্তরের সময়ক্ষেপণে লাগাম আসছে