প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ পাবেন ৬০ হাজার সেবাদানকারী
দেশে ও বিদেশে ক্রমবর্ধমান কেয়ারগিভার চাহিদা পূরণে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ার গিভার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নতুন প্রবাসী আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে কেয়ারগিভারের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সেই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।
তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরেও কেয়ারগিভার সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধির কারণে এ খাতে প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেশি।
এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ার গিভার’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাতে কর্মরত ৬০ হাজার সেবাদানকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কেয়ারগিভার তৈরির পথ সুগম হবে।
প্রসঙ্গত, ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কেয়ারগিভার পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।