ব্যাপক আমদানিতে সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট নেই। তারপরও রোজার এক মাস আগেই বাড়ছে ছোলার দাম। রোজায় পণ্যটির বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে আগেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। ছোলার সঙ্গে চিনির দামও বেড়েছে। গত মাসেই বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। সব মিলিয়ে রোজায় যেসব মুদিপণ্যের চাহিদা বাড়ে, তার প্রধান কয়েকটির দামের গতিপ্রকৃতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে ক্রেতারা।
কারওয়ান বাজার, রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচাসহ রাজধানীর কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক ধরেই বাজারে ছোলার দাম বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারসহ বড় বাজারগুলোয় ছোলা বিক্রি হয়েছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। তবে ছোট বাজারগুলোয় দাম ছিল প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অথচ এক-দেড় সপ্তাহ আগেও তা ৮৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সারা বছরে ছোলার চাহিদা ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রোজাতেই চাহিদা প্রায় ১ লাখ টন। বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই রোজার আগে দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে সব সময় সরবরাহের সম্পর্ক থাকে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক লাখ টন ছোলা বেশি আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এবার আসন্ন রোজা উপলক্ষে মসুর ডালও আমদানি করেছেন গত বছরের তুলনায় বেশি। একই অবস্থা ঘটেছে চিনির ক্ষেত্রে। তারপরও বাজারে পণ্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। সপ্তাহ দুয়েক আগেও খোলা চিনি ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি। এখন তা ১০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা হয়েছে। মাসখানেক আগে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হতো ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। এখন তা ১০৫-১১০ টাকা।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আসন্ন রমজান উপলক্ষে পাইকারি বিক্রেতারা ছোলা, চিনিসহ মুদিপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাড্ডার মুদিদোকানি হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বাজারে ছোলা-চিনির সরবরাহ ঘাটতি নেই। কিন্তু তারপরও পাইকারি বাজারে দাম বাড়তে থাকায় খুচরাতেও বেড়েছে।’
রাজধানীর সেগুনবাগিচা কিচেন মার্কেটে ক্রেতা আয়েশা খানম বলেন, ‘শুনেছি, এবার রোজার পণ্যের ব্যাপক আমদানি হয়েছে। তাই আশা ছিল, এবার হয়তো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হুজুগ উঠবে না। কিন্তু বাজারে দেখছি উল্টো ব্যাপার।’
এদিকে কাঁচাবাজারের পণ্যের মধ্যে সরবরাহ বাড়তে থাকায় স্বস্তি এসেছে পেঁয়াজের দামে। পণ্যটির দাম কিছুদিন ধরেই কমেছে। এখন প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আমদানির কিছু পেঁয়াজ এখনো ৭০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এখনো আলু তুলনামূলক কম দাম, প্রতি কেজি ২৫-৩০ টাকাতেই মিলছে।
কিছুটা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকায়। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থির রয়েছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা ডজনে।
কুয়াশায় সরবরাহ কমার যুক্তিতে দুই সপ্তাহ আগে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া শীতের সবজির দাম চলতি সপ্তাহে আবারও কমেছে কিছুটা। বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়া টমেটোর দাম কমে ৫০-৬০ টাকায় নেমেছে। এক সপ্তাহ আগেই তা ৮০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগে ৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। শিমের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। বেগুন মানভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।