হোম > অর্থনীতি

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি: পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন খরচ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবার আরও তীব্র আকার নিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন ও তার পেছনে ব্যয় করার সামর্থ্য নেমে এসেছে সাম্প্রতিক পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ধারাবাহিক এই নিম্নমুখী প্রবণতা সরকারের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা যেমন স্পষ্ট করছে, তেমনি একই সঙ্গে দেশের বিনিয়োগ চক্রেও চাপ বাড়াচ্ছে।

গতকাল চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের (জুলাই-মার্চ) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের তথ্য প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। তাদের তথ্যে দেখা যায়, এ সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই হার আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বাস্তবায়নের হার ছিল ৩৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। আরও পেছনের তিন অর্থবছরে একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ৪১-৪৫ শতাংশের বেশি।

আইএমইডির তথ্যে দেখা যায়, এই ৯ মাসে সরকার তার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে খরচ করেছে ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময় এই খরচ হয়েছিল ৮২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খরচ কমেছে ৭ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা।

এডিপি বাস্তবায়নের এই ধীরগতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারক ও গবেষকেরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ১০ শতাংশের নিচে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। একইভাবে ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতির প্রকল্পগুলোর যৌক্তিকতা নতুন করে যাচাই করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া প্রকল্প বাদ দিয়ে অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একক মাস হিসেবেও চলতি বছরের মার্চে উন্নয়ন ব্যয় কমেছে। এ মাসে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ২৭৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর তুলনায় আগের অর্থবছরের মার্চে ব্যয় ছিল বেশি—১৫ হাজার ৩৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা তখনকার এডিপির হিসাবে ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ মাসভিত্তিক হিসাবেও ব্যয়ের ধীরগতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এডিপিতে বড় ধরনের কাটছাঁটের পর সংশোধিতভাবে ২ লাখ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে সরকারের অর্থায়ন বা স্থানীয় মুদ্রা বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। আর বৈদেশিক সহায়তা প্রকল্প ঋণ বা অনুদান ধরা হয় ৭২ হাজার কোটি টাকা। এর আগে মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি কাটছাঁট হয়েছে সামাজিক খাতে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৭৩ শতাংশ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে কমেছে ৫৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি ১৮ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা খরচ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৯২০ কোটি টাকা খরচ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ৭ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা খরচ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ৬ হাজার ২৬২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় খরচ করেছে ৫ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খরচ করছে ২ হাজার ১৩ কোটি টাকা। মাত্র ২৬৬ কোটি টাকা খরচ করেছে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং ৬৭৮ কোটি টাকা খরচ করেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সংশোধিত এডিপির মোট বরাদ্দের ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছিল, যা তার আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম।

একই পণ্যে বহুস্তরের করব্যবস্থা চায় না বিটিএমএ

বিমানের নবগঠিত বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

একনেকে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

বিবিএসের নতুন ব্যবস্থা বাড়াবে অর্থনীতির গতি

একসঙ্গে ১৫টি মডেলের ফ্রিজ উন্মোচন করল ওয়ালটন

ছুটির দিনেও বিএসটিআই সেবা চালুর নির্দেশ

ঢাকা ট্যাক্সেস বারের নতুন সভাপতি মিজান, সাধারণ সম্পাদক আশরাফ

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

বাংলাদেশসহ এশিয়ায় পলিয়েস্টার সরবরাহে যুদ্ধের ধাক্কা, পোশাকশিল্পে ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা

ক্রিপ্টো বাজারে নাম লেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম