হোম > অর্থনীতি

ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা

খেলাপি ঋণ আদায়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ১০ হাজার মামলা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

আমানতকারীদের অর্থ ফেরাতে খেলাপি ঋণ আদায়ে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা করা হয়েছে। আরও মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়কার অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে চলা ফরেনসিক অডিটও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ইসলামী ব্যাংককে ঘুরে দাঁড় করাতে এখন খেলাপি ঋণ আদায়, আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলা করার পাশাপাশি দ্রুত অর্থ ফেরাতে ‘এক্সিট পলিসি’ ও ‘অলটারনেটিভ ডিসপিউট রেজল্যুশন’ বা এডিআরের মতো সমঝোতার পথও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় ব্যাংকটির গত ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এতে পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শাখা পুনর্বিন্যাস এবং প্রযুক্তিব্যবস্থার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকটির পুনর্গঠনের কাজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে চলছে। আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা এবং আটকে থাকা অর্থ দ্রুত উৎপাদনশীল খাতে ফেরানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য বিআরডি নিয়মিত ব্যাংকটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে।

ব্যাংকটির আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়কার অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি এবং সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিটও চূড়ান্ত পর্যায়ে। কারা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, অডিটের মাধ্যমে তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

ব্যাংকটির পরিচালনা কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ জুলাই নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজও চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিচালন ব্যয় কমানো এবং কাজের দক্ষতা বাড়াতে ৭৮০টি শাখা ও ১ হাজার ৫০০টি বিজনেস ইউনিট একীভূত ও পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

গ্রাহকদের জন্যও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে টাকা তোলার সুযোগ দিতে একটি অভিন্ন ‘কমন ইন্টারফেস’ চালুর কাজ শেষ পর্যায়ে। এর পাশাপাশি সিবিএস, সুইফট ও আরএমএসহ ব্যাংকটির বিভিন্ন প্রযুক্তিব্যবস্থা একীভূত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। এ জন্য খেলাপি ঋণ আদায় থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই তদারকি বাড়ানো হয়েছে।