পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী পেটে ব্যথা, খিঁচুনি ও মাথা ঘোরার কথা জানায়। পরে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করার পরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের দুধ বিতরণের সময় রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের আরডি নামের প্যাকেটজাত দুধের কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো দেখতে পান। এ ছাড়া কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো আকার ধারণ করায় শিক্ষকেরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা ওই কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানান এবং হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে স্কুলে এসে মনোয়ার হোসেন নিজে দুধ খেয়ে পরীক্ষা করে দুধে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান এবং সব শিক্ষার্থীকে দুধ খেতে বলেন। পরে শিক্ষার্থীরা দুধ খাওয়ার পর থেকে কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী পেটব্যথা, খিঁচুনি, মাথা ঘোরাসহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত ৭টা পর্যন্ত প্রায় ১৯ জনের মতো শিশু শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তসলিমা খাতুন বলেন, দুধ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো ও দইয়ের মতো জমাট অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়ে দুধ বিতরণ না করার কথাও বলা হয়েছিল। তবে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন নিজে দুধ খেয়ে শিক্ষার্থীদেরও খেতে বলেন। এরপরই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলে, দুধ খাওয়ার পর থেকেই তার মাথা ও পেটব্যথা শুরু হয়। দাঁড়িয়ে থাকতে না পারায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত ১৯ শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সবার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। অনেকেই ভালো আছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।