ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক ঘটনায় এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার সদর উপজেলার টাঙ্গন নদীতে ডুবে ১০ বছর বয়সী মুগ্ধ বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। একই দিন অটোরিকশা চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান চালক মানিক মিয়া (২৫)। এ ছাড়া বিয়ের আগের গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সামিউল ইসলাম (২১) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সদর উপজেলার জমিদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ বিশ্বাসের বাবা মানিক বিশ্বাস জানান, শুক্রবার দুপুরে দুই বন্ধুর সঙ্গে টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মুগ্ধ। খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন নদীতে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। বেলা ৩টার দিকে নদী থেকে মুগ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের এ ঘটনায় কারও প্রতি সন্দেহ নেই বলে থানায় দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের চকহলদী গ্রামের মানিক মিয়া অটোরিকশা চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হন। তাঁর বাবা ফজর আলী জানান, শুক্রবার সকালে বাড়িতে চার্জে থাকা অটোরিকশার প্লাগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মাটিতে পড়ে যান মানিক। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় সামিউল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর পরিবারের ভাষ্য, শুক্রবার তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। আগের দিন বিয়ের কেনাকাটা শেষ হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ের কাবিন ও অতিথিদের নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। রাতে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন সামিউল। পরে বন্ধুর ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাঁকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, সামিউসহ তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।