রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ, খুদে শিক্ষার্থীদের ছিটিয়ে দেওয়া তাজা ফুলের পাপড়ি এবং মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত চারপাশ। প্রিয় নেতা ও দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিজ জেলায় একনজর দেখতে এবং বরণ করে নিতে দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে দেখা গেল নজিরবিহীন উন্মাদনা ও বর্ণিল উৎসবের আমেজ।
আজ সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ভাতারমারি ইক্ষু খামার এলাকায় নবপ্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে এই আনন্দঘন দৃশ্য চোখে পড়ে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জন্মভূমিতে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সফর।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত ১৫ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে সকাল থেকেই ভিড় জমান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক এবং সর্বস্তরের নারী-পুরুষ তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রিয় মানুষটিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন অবস্থায় বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেখা পাওয়ার আকুতি জানিয়ে জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা জোলেখা বেগম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘হামার ফখরুলকে দেখার জন্য মুই অপেক্ষা করছি সকাল থেকে এইঠে দাঁড়াই আছু।’
রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক নিরাপত্তার মধ্যেও সাধারণ মানুষের বাঁধভাঙা সংবর্ধনা ও উচ্ছ্বাসে কোনো ঘাটতি পড়েনি।
বেলা ১১টা ১৯ মিনিটে যখন রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গীদের গাড়িবহর অনুষ্ঠানস্থলের দিকে যাত্রা শুরু করে, তখন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা প্রটোকলের গাড়ির ওপর পুষ্পবৃষ্টি শুরু করে। একই সঙ্গে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
প্রিয় সন্তানকে দেশের সর্বোচ্চ পদে পাওয়ার আনন্দ এবং একই সঙ্গে নিজেদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আজ এক নতুন ইতিহাস ও উৎসবে মেতে উঠেছে পুরো ঠাকুরগাঁও।