ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও তার বাবাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লোকলজ্জায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একটি এলাকায়।
এ ঘটনায় গত ৫ জুলাই ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। কিশোরীকে ধর্ষণ ও তার বাবাকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। সেই মামলার প্রধান আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গতকাল শনিবার রাতে ঢাকার সাভার উপজেলার কাতলাপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ওই গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সাইফুল ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গত ২৫ জুন সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান সাইফুল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফাঁকা কাগজ ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর একটি গোপন জায়গায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে চলে যান তিনি। ঘটনাটি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর বাবা প্রতিবাদ জানাতে অভিযুক্ত সাইফুলের বাড়িতে যান। সেখানে গেলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরে গত ২ জুলাই বিকেলে ভুক্তভোগীর বাবা বাড়ি থেকে বের হলে সাইফুল ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তাঁর ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক জখম হয়। এ ঘটনার পর লোকলজ্জায় ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির মুখে মানসিক হীনমন্যতায় ভোগেন তিনি। পরে গত ৫ জুলাই সকালে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা।
ঘটনার বিষয়ে র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের কাতলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেন র্যাব-১৩ ও ৪-এর সদস্যরা।