ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ১২ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে সুদাসলে ১৩ লাখ টাকা দাবির অভিযোগে খাদেমুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার উপজেলার শিধোর বাজার থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার প্রতারণার মামলায় খাদেমুল ইসলামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
এর আগে ভুক্তভোগী উত্তম কুমার রায় বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কলন্দা কাজীপাড়া গ্রামের দিনমজুর উত্তম কুমার রায় বছর তিনেক আগে প্রতিবেশী খাদেমুল ইসলামের কাছ থেকে সুদের ওপর ১২ হাজার টাকা ধার নেন। বছর ঘুরতেই সুদাসলে সেই টাকা দাঁড়ায় ১ লাখ ৭৬ হাজারে। উত্তম কুমার ধার নেওয়া টাকার দ্বিগুণ পরিশোধ করে ব্যাংকের চেকের পাতা ফেরত চেয়েও পাননি। পরবর্তী সময়ে ঋণের জামানত হিসেবে নেওয়া ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকা লিখে উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা ঠুকে দেন খাদেমুল। তিন বছর ধরে এই মামলায় লড়তে গিয়ে দেড় লাখ টাকারও বেশি খরচ করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ওই দিনমজুর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু উত্তম কুমারই নন, খাদেমুলের দাদন ব্যবসার খপ্পরে ও ফাঁকা চেকে প্রতারণামূলক মামলার শিকার হয়ে ওই এলাকার অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। তাঁর সুদের ভয়াল থাবায় সবকিছু হারিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি দাদন ব্যবসা করছেন।
উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘কয়েকবার সালিসে বসেছি। স্থানীয়রা ১১ মাসের সুদসহ ৩৮ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলেছিল, আমি রাজি ছিলাম। তাঁর পায়ে পর্যন্ত ধরেছি। কিন্তু সেই মানেনি, মামলা করে দিয়েছে। তাঁর মামলায় আজ আমি নিঃস্ব।’
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের অভিযোগ ও গণমাধ্যমের নজরে আসার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।’
ওসি বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের অবৈধ ও শোষণমূলক দাদন ব্যবসার বিরুদ্ধে শুধু আইনি ব্যবস্থাপনাই যথেষ্ট নয়, এদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে এবং সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।’