ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিপুল রাজস্ব আয় হলেও দীর্ঘদিন ধরে আধুনিকায়ন ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এ স্টেশন ব্যবহার করলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার অভাব প্রকট।
পীরগঞ্জ, হরিপুর ও রাণীশংকৈল—এই তিন উপজেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এই স্টেশন। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ছয় জোড়া ট্রেন এখানে যাত্রাবিরতি করে এবং প্রতিটি ট্রেনেই থাকে উপচে পড়া ভিড়। তারপরও এখানে যাত্রীসেবার বিষয়ে কোনো মনোযোগ নেই রেল কর্তৃপক্ষের।
সরেজমিনে দেখা যায়, পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে দুটি প্ল্যাটফর্ম থাকলেও মাত্র একটিতে ছোট আকারের ছাউনি রয়েছে। ফলে রোদ-বৃষ্টিতে যাত্রীদের খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করতে হয়। বসার আসন ও ফ্যান প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেক আসন আবার দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অন্ধকারে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে ট্রেনে ওঠানামা করতে হয়। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর ছিনতাইয়ের ঘটনা তো ঘটছে অহরহ। এ ছাড়া স্টেশনে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
যাত্রী হিরা বলেন, স্টেশনটিতে পাবলিক টয়লেট না থাকা একটা বড় সমস্যা। এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যেতে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হতে হয়। এ ছাড়া এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম ছোট হওয়ায় ঢাকাগামী ট্রেনের কয়েকটি বগি প্ল্যাটফর্মের বাইরে থাকে। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের ওঠানামায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
লিমন নামের আরেক যাত্রী জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশন থেকে রেলওয়ের বিপুল রাজস্ব আয় হলেও যাত্রীসেবার উন্নয়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সুজন বলেন, ‘পীরগঞ্জ স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে কিছু সমস্যার বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্ল্যাটফর্ম, ছাউনি, আলোর ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, আগের নকশাগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও পর্যায়ক্রমে প্ল্যাটফর্ম ও ছাউনি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাথরুম, লাইটিং ও অন্যান্য সমস্যাও দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।