ঠাকুরগাঁও সদরে নির্যাতন ও অপমানের জেরে বিষপানে ঋতু আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। তিনি উপজেলার ফুটকিবাড়ী গ্রামের এরশাদ আলীর স্ত্রী। এই ঘটনায় আজ দুপুরে থানায় মামলা করেছেন গৃহবধূর বাবা মো. রতন হোসেন।
গতকাল বুধবার উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ফুটকিবাড়ী গ্রামে স্বামীর বাড়িতে বিষপান করেন ঋতু আক্তার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৯ বছর আগে এরশাদ ও ঋতুর বিয়ে হয়। এর পর থেকেই যৌতুকের জন্য ঋতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী এরশাদ ও শাশুড়ি রোকেয়া খাতুন। যৌতুক দাবির ঘটনায় ২০২০ সালে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছিল। তবে তাদের দুই মেয়ের কথা বিবেচনা করে মামলা তুলে নেওয়া হয়।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে শাশুড়ি রোকেয়া বাজার করে বাড়িতে চান্দা মাছ বাজার কাজ করছিলেন। এ সময় ঋতু তাঁকে বলেন, মাছের কাটাগুলো ভালোভাবে বেছে নিতে, যেন তারা নাতনিরা খেতে পারে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রোকেয়া খাতুন চিৎকার শুরু করেন এবং ঋতুকে বিষপান করে মরতে বলেন। ঋতু বিষয়টি স্বামী এরশাদকে জানালে তিনিও ঋতুকে মারধর করেন এবং বিষপান করতে বলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, তাদের এই নির্যাতন ও অপমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ঋতু। সকাল ১০টার দিকে তিনি ঘরে থাকা ঘাস মারার বিষ পান করেন। টের পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নেয় পরিবারের লোকজন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দুপুরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, গৃহবধূর বিষপানে মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা মামলা করেছেন। মামলায় এরশাদ আলী ও রোকেয়া খাতুনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।