ঠাকুরগাঁওয়ে এক তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই তরুণী ও তাঁর স্বজনদের অ্যাসিড হামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আজ রোববার এ ঘটনায় তরুণীর মা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি অভিযোগ করেন। পরে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২৫(২) ও ২৭ ধারায় অভিযোগটি মামলায় লিপিবদ্ধ হয়েছে। মামলায় মো. ইকবাল হোসেন ওরফে সোনা মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে ইকবালের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ইকবাল তাঁর কিছু ছবি সংগ্রহ করেন। পরে ওই তরুণী যোগাযোগ বন্ধ করে অন্যত্র বিয়ে করেন। বিয়ের পর ইকবাল ওই তরুণীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দিতে থাকেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ইকবাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তরুণীর ছবি আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি-ভিডিওতে রূপান্তর করেন। পরে সেগুলো বিভিন্ন পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট এবং তরুণীর আত্মীয়স্বজনের ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান তিনি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত মঙ্গলবার ইকবাল ওই তরুণী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলেন—বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বা পুলিশের কাছে গেলে রাস্তায় পেলে অ্যাসিড মেরে মুখ পুড়িয়ে দেওয়া হবে এবং প্রাণে মেরে ফেলা হবে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে একই বিষয়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী বলেন, সাধারণ ডায়েরি করার পরও ওই ব্যক্তির কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। পরে নতুন করে থানায় আবারও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।