ঠাকুরগাঁওয়ের সদর, পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পুকুর ও নদীতে ডুবে দুজন এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোয় পৃথক অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ বাজার এলাকার পারপুগী ঈদগাহ মাঠ-সংলগ্ন পুকুর থেকে নূর হাসান (১১) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র এবং মধ্য পারপুগী গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে। আজ সকাল ১০টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় নূর হাসান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন পুকুরে জাল ফেলে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার টাঙন নদীতে গোসলে নেমে রিপন হোসেন (১৯) নামের এক তরুণ নিখোঁজ হন। তিনি উপজেলার আকাশীল গ্রামের ফয়জুল ইসলামের ছেলে। গতকাল শনিবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে টাঙন নদীর সেতুর কাছে গোসল করতে গেলে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে রিপনের মরদেহ ভেসে ওঠে। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
অপর দিকে রাণীশংকৈল উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অনিল চন্দ্র ঝডুরাম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার ভেদাইল গ্রামের বাসিন্দা। আজ সকালে জমিতে গোবর ফেলতে যান তিনি। এ সময় সড়ক পার হতে গেলে একটি মোটরসাইকেল তাঁকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহতাবস্থায় রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দুপুরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রাণীশংকৈল থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
এ ছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে বাইসাইকেল থেকে পড়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামসুল হক (৬৯) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রাতে বোলাইহাট বাজার থেকে বাইসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে কাঁচা সড়কে পড়ে তিনি আহত হন। প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল থানার পুলিশ জানিয়েছে, স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।