ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপটে ড্রেজার বসিয়ে পুকুর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ধসে পড়ছে সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা, বসতবাড়ির অংশবিশেষ, টয়লেট, সীমানাপ্রাচীর ও গাছপালা। ভাঙনের আতঙ্কে চরম ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী বিচার ও প্রতিকার চেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২ নম্বর নেকমরদ ইউনিয়নের বামনবাড়ি এলাকায় প্রভাবশালী গণি মিয়া তাঁর ব্যক্তিগত পুকুরে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এতে পার্শ্ববর্তী মো. মিজান আলীসহ (জানু) একাধিক বাসিন্দার বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতিমধ্যে ল্যাট্রিন, সীমানাদেয়াল এবং বেশ কিছু গাছপালা পুকুরের গর্তে ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে এলাকার সাধারণ মানুষের যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটিও ভাঙনের কবলে পড়ে চলাচল প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নেকমরদ থেকে কাউন্সিল বাজার সড়কের বামনবাড়ি এলাকার পাকা সড়ক ঘেঁষে বিশাল এক ব্যক্তিমালিকানা পুকুর। ওই পুকুরের কাছাকাছি রয়েছে প্রায় ২০টি বাড়ি। এ বাড়িগুলোর কাছাকাছি চলে এসেছে পুকুরের পানি। পাশাপাশি পুকুরের পানি রাস্তা ছুঁই ছুঁই। নেকমরদ থেকে কাউন্সিল বাজারে যাওয়ার পাকা সড়কটিও বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ২ একরের মতো জমিতে গণি মিয়া, প্রফুল্ল ও আনসারের মালিকানা এই পুকুর। পুকুরটিতে কোনো পাড় না দেওয়ায় পানির স্রোতে ভাঙতে ভাঙতে স্থানীয়দের নিজস্ব জমিও পুকুরে বিলীন হয়ে গেছে। পুকুরের মালিকদের বারবার পাড় বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হলেও তাঁরা কর্ণপাত করছেন না। এখন বাড়িঘর নিয়ে আতঙ্কে এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো ক্ষমতার দাপট এবং প্রভাব দেখিয়ে তাঁদের হুমকি-ধমকি দেন। সরকারের নদী বা জলাশয় সুরক্ষা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে এই তাণ্ডব চালানো হলেও কোনো তোয়াক্কা করছেন না তিনি। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে আশপাশের কয়েকটি পরিবার।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মিজান আলীসহ কয়েকজন বলেন, ‘আমাদের ভিটেমাটি ধসে যাচ্ছে, রাস্তা ভেঙে গেছে। আমরা বাধ্য হয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হয়তো আমাদের ভিটেমাটি পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে।’
পুকুরের মালিক গণি মিয়া বলেন, ‘পুকুর হচ্ছে প্রফুল্ল ও আনসার আলীর। আমার সামান্য জমি আছে পুকুরে।’
এদিকে প্রফুল্ল বলেন, ‘ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলেছেন গণি মিয়া। তাঁকেই এটার সমাধান দিতে হবে।’
রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান বলেন, খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।