ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানা এলাকায় প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২ জুন বিকেলে উপজেলার মধুপুর দাখিল মাদ্রাসার সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীর সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় আজ রোববার দুপুরে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে রুহিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীটি স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। মামলার প্রধান আসামি মো. রিপন রাজ (২২) দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীটি বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে রিপনের পরিবারকে অবহিত করা হয় এবং তাকে সতর্ক করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিপন ও তার সহযোগীরা মেয়েটির বড় ধরনের ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজছিল।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২ জুন দুপুরে স্থানীয় একটি বাজারে শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফিরছিল ওই ছাত্রী। বিকেল পৌনে চারটার দিকে মধুপুর দাখিল মাদ্রাসার সামনে পাকা সড়কে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি কালো মাইক্রোবাস নিয়ে ওত পেতে থাকা আসামিরা তার পথরোধ করে। এরপর তাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মেরে অচেতন করে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। ধস্তাধস্তির সময় সড়কের পাশে মেয়েটির স্কুলব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় পথচারীরা।
এদিকে মেয়ে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৩ জুন রুহিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ৫ জুন রাতে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন মো. সাইদুর রহমান, মো. আশাদ আলী, মো. রুহুল আমিন ও তানিয়া আক্তার। মামলা করার পর আসামিপক্ষ থেকে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদিউজ্জামান বলেন, স্কুলছাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।