চার দিন আগে লালমনিরহাট থেকে নিখোঁজ হন বৃদ্ধ সুরুজ আলী (৬৩)। এরপর গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎসংলগ্ন জেপি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে মারা যান সুরুজ আলী।
এ ঘটনায় নিহতের জামাতা মাহবুব আলম বিআরটিসি পরিবহন ও চালকের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা করেন। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুকদুলালী গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে সুরুজ আলী।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, সুরুজ আলী চার দিন আগে নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে আদিতমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি এলাকায় মাইকিং ও খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে হাইওয়ে পুলিশের খবর পেয়ে স্বজনেরা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় গিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে সুরুজ আলী মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে ঠাকুরগাঁও সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী বিআরটিসি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় গাড়িটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সিআইডি ও পিবিআইয়ের সহায়তায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’