রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সরকারি সফরে জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থান করবেন তিনি। তাঁর আগমন ঘিরে পুরো জেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জা, বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে। প্রিয় নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন স্থানীয়রা।
সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, ‘আমাদের ঘরের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন—এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্মরণীয় ও জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতির এ সফরে ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুর এলাকায় এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
এ নিয়ে জেলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও শহর ও তাঁর যাতায়াতের পথে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় তাঁর প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে গর্ব, আবেগ ও উৎসবের আবহ। চেনা শহর ও চেনা মানুষ এখন অপেক্ষায়—নিজের জেলার সন্তানকে এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে বরণ করে নেওয়ার।