ঠাকুরগাঁও শহরের একটি ওষুধের দোকানে চুরি হওয়া ১৭ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের তিন সদস্যসহ চুরি করা ওষুধ কেনার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপও উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন আন্তঃজেলা চোরচক্রের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন (৬০), রাজু মিয়া (৩২) ও বিল্লাল হোসেন (৫৫) এবং ওষুধ ব্যবসায়ী শিখর চন্দ্র সরকার (৩১)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর বিসিক মোড়ের কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথের ওষুধের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র দোকান থেকে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার দামি ওষুধ নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দোকানের মালিক সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা–পুলিশের একটি যৌথ দল তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে চুরির সঙ্গে রাজু, জাহাঙ্গীর ও বিল্লালের সরাসরি সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। অনুসন্ধানের সূত্র ধরে একাধিক জেলায় অভিযান চালানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুরের দশমাইল এলাকা থেকে চোরচক্রের এই তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত পিকআপটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিন আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ী শিখর চন্দ্র সরকারকে তাঁর দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর বসতবাড়ি ও দোকানে তল্লাশি চালিয়ে চুরি যাওয়া পুরো ওষুধ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে দোকানমালিক কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘প্রায় নয় লাখ টাকার মতো মালামাল উদ্ধার হয়েছে। এখনো হাতে পাইনি। সম্ভবত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওষুধগুলো হাতে পাব।’
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, রাজু, জাহাঙ্গীর ও বিল্লাল আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন।