ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় হাবিবা আক্তার (১৮) নামে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হাবিবার মা শাহিনা বেগমসহ (৩৫) আরও ১১ জন নারী-শিশু আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের ভুল্লী মনসুর আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাবিবা আক্তার ভুল্লী উপজেলার মুন্সিরহাট মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা গার্মেন্টসকর্মী হারুনুর রশিদের মেয়ে।
আহতদের মধ্যে শাহনাজ (৩২), তাঁর মেয়ে মাইশা (১৪) ও জান্নাত (১০) এবং ছেলে আরফান (৫), অটোরিকশাচালক সোহাগের (২৫) পরিচয় পাওয়া গেছে। আহত সোহাগ বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যরা ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশাটি যাত্রী নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে যাচ্ছিল। মহাসড়কের ভুল্লী মনসুর আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে পঞ্চগড়গামী একটি ট্রাকের ধাক্কায় সেটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই হাবিবার ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাবিবার মৃত্যু হয়।
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন আহত শাহিনা বেগম। ঘুম ভাঙলে চোখ মেলে স্বজনদের কাছে আকুতি করে জিজ্ঞেস করছেন, ‘আমার হাবিবা কই? ও কি বেশি ব্যথা পাইছে?’ অপরদিকে হাসপাতালের মর্গে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছে তরুণী হাবিবার মরদেহ।
দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশায় থাকা নিহত হাবিবার ফুফু জিমু আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘রাস্তা একদম ফাঁকা ছিল। হঠাৎ একটি ট্রাক এসে সজোরে আমাদের অটোরিকশায় ধাক্কা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে হাবিবার পা কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মেয়েটা এখন মর্গে নিথর হয়ে পড়ে আছে। ওর মৃত্যুর খবর এখনো মা জানেন না।’
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মনজুরুল ইসলাম জানান, আহতদের অবস্থাও বেশ আশঙ্কাজনক। তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আর নিহত হাবিবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।