হোম > সারা দেশ > ঠাকুরগাঁও

ধর্ষণের পর গোসলের ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি, গ্রেপ্তার ১

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবির মামলায় মো. আল আমিন (৩০) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাণীশংকৈল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়টি জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাতে গাজীপুর মহানগরের সদর থানার শিমুলতলি টাকশাল এলাকার একটি রিকশার গ্যারেজ থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব-১-এর সিপিএসসির গোয়েন্দা দলের সহায়তায় সদর থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে রাণীশংকৈল থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলার একটি এলাকায় ওই নারী গোসলখানায় গোসল করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি ভেন্টিলেটর দিয়ে গোসলখানায় ঢুকে তাঁর নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন। বাইরে দাঁড়িয়ে আল আমিন ওই নারীকে বের হতে বাধা দেন। পরে গোসলখানায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার পর ওই নারীর নগ্ন ভিডিও মুঠোফোনে রেখে দেন অভিযুক্তরা। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা ভেবে বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর অভিযুক্তরা নিজ থেকেই আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় মামলার পাঁচ নম্বর আসামি মো. মাহাবুব আলম ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়েছে। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।