হোম > সারা দেশ > ঠাকুরগাঁও

‘আমার আর বেঁচে থাকা সম্ভব না’—ফেসবুক পোস্টের পর আইটি কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শুভান্ত কুমার দেবনাথ পাপ্পু। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় সরকারি আবাসিক ভবন (ডরমিটরি) থেকে শুভান্ত কুমার দেবনাথ পাপ্পু (২৬) নামের এক আউটসোর্সিং আইটি টেকনিশিয়ানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ডরমিটরির নিজ কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দিন রাতেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে।

পাপ্পু ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের জালালি গ্রামের চন্দন কুমার দেবনাথের ছেলে। তিনি কাজীপুর উপজেলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং প্রকল্পে ‘ফিল্ড আইটি টেকনিশিয়ান’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং উপজেলা ডরমিটরিতেই বসবাস করতেন।

আত্মহত্যার ঠিক আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট দেন পাপ্পু। সেখানে তিনি নিজের জীবনের কঠিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন—‘আমার কথা বা ব্যবহারে কেউ কোনো কষ্ট পেয়ে থাকলে আমাকে সবাই ক্ষমা করে দিয়েন। আমি অনেক খারাপ একটা পরিস্থিতির মধ্যে জীবন পার করতেছি, আমার দ্বারা আর বেঁচে থাকা সম্ভব না। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না বা কাউকে যেন দোষারোপ করা না হয়—সবার কাছে আমার অনুরোধ থাকল। এখন সবাই সুখে-শান্তিতে থাকুক। ভালো থাকবেন সবাই।’

পাপ্পুর চাচাতো ভাই মনি দেবনাথ জানান, রাত ১০টার দিকে তাঁরা মৃত্যুর খবর পান। পাপ্পু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা তাঁদের জানা নেই। ফেসবুকে পোস্টটি দেখার পর তাঁরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পান। পরে অফিস থেকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খবর পেয়ে ডরমিটরি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’