হোম > সারা দেশ > টাঙ্গাইল

মধুপুরে হঠাৎ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ৫৩ হেক্টর ফলের বাগান

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 

মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে ভেঙে পড়েছে বাগানের সব কটি ফলবান কলাগাছ। ছবি: আজকের পত্রিকা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে আজ বুধবার দুপুরের কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে ৫৩ হেক্টর কলা-পেঁপেবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, পাঁচ এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা ও ২৬ হেক্টর পেঁপেবাগানের ক্ষতি হয়েছে। আনারস ও বিভিন্ন সবজিখেতের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, প্রাথমিকভাবে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় কিছু এলাকায় আনারসবাগানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার কলাগাছ ভেঙে পড়েছে। শত শত ফলবতী পেঁপেগাছও উপড়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে ভেঙে পড়েছে বাগানের সব কটি ফলবান কলাগাছ। ছবি: আজকের পত্রিকা

হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম বলেন, ‘বুধবার দুপুরের কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ায় আমাদের স্বপ্নগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। পাহাড়ি এলাকার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া, হরিণধরা, কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় কলা, আনারস, পেঁপে ও সবজির বাগান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

আবু সায়েম আরও বলেন, বিশেষ করে কলাগাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক। অনেক বাগান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। কোথাও কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। পাশাপাশি আনারস, পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেক কৃষক ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন কলা, আনারস ও পেঁপে চাষে। আকস্মিক ঝড়ে সেই বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি, সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দাবি করেছেন।