টাঙ্গাইলের মধুপুরে ৫০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এনে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদকে (৮) দফায় দফায় নির্যাতন এবং গভীর রাত পর্যন্ত খুঁটিতে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী মফেজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার বেরীবাইদ ইউনিয়নের গোবুদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন গভীর রাতে জিহাদকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন।
জিহাদ নাজমা বেগম ও ফারুক হোসেনের ছেলে। জিহাদ ছোট থাকতেই নাজমা-ফারুক দম্পতির বিচ্ছেদ হয়। পরে দুজনই ভিন্ন স্থানে বিয়ে করে সংসার পেতেছেন। গত ছয় বছর ধরে জিহাদ নানার বাড়িতে প্রতিপালিত হচ্ছে।
জিহাদের নানা মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘জিহাদের বাবা-মা নেই। গত ছয় বছর ধরে আমরা তাকে লালন-পালন করছি। জিহাদ গোবুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।’
মফিজুল ইসলাম আরও বলেন, গতকাল বেলা দুইটার দিকে জিহাদ তাঁর কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে মফেজ উদ্দিনের দোকান থেকে খাবার কিনে খায়। মাগরিবের আগে স্থানীয় দুই কিশোরকে দিয়ে জিহাদকে ডেকে নেন মফেজ উদ্দিন। পরে নিজের দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এনে জিহাদকে নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মফেজ উদ্দিন প্রথমে জিহাদকে ঘরের চৌকির পায়ার সঙ্গে বেঁধে দফায় দফায় নির্যাতন করেন। জিহাদ চুরির অভিযোগ অস্বীকার করায় তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর মফেজ উদ্দিন গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘খবর শুনেছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা পাঠিয়েছি। বিস্তারিত জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’