গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটু সময় দেন। এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুতের এমন একটি অবস্থা তৈরি করব এবং শিল্পকারখানায় গ্যাসের এমন অবস্থা তৈরি করব যে, এক মিনিটের জন্যও যাবে না। তবে এ জন্য আমাদের এক-দুই বছর সময় দিতে হবে।’
আজ শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া বাজারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আহমেদ আজম খান এসব কথা বলেন।
চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের জন্য আগের আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করে মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এই সমস্যাগুলো তৈরি করে গেছে, আমরা এর মধ্যে পড়ে গেছি। আমরা এগুলোর স্থায়ী সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি। তারা উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আনার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে চলে গেছে।’
আজম খান বলেন, সাগর থেকে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রও স্থাপন করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানি ও অনিয়ম বন্ধ করে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, তদবিরবাজি বা জুলুম-নির্যাতনে জড়ালে সরাসরি আমার কাছে অভিযোগ করবেন। আমার কোনো আত্মীয়স্বজন নেই, যারা তদবির, চাঁদাবাজি বা দখলবাজি করতে আসবে। সবার জন্য আমার চোখ একরকম। কোনো জোর-জবরদস্তি চলবে না, চাঁদাবাজি চলবে না।’
মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (সখীপুর সার্কেল) এ কে এম মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কবির হাসান, সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলমসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পরে পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি।