হোম > সারা দেশ > সিলেট

স্বামী-স্ত্রীর মানব পাচারের ফাঁদ: আটকে রাখা শিশুসহ উদ্ধার ৮

সিলেট প্রতিনিধি

আটককৃত আসামি রেনু বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে একটি পাচার চক্রের আস্তানা থেকে নারী, শিশুসহ আটজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিদেশের প্রলোভন দেখিয়ে আটকে রাখা এসব ভুক্তভোগীদের উদ্ধারের পাশাপাশি পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত এক নারীকে আটক করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) শাহপরান (রহ.) থানা এলাকা থেকে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। তবে চক্রের মূল অভিযুক্ত গৃহকর্তা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যান।

আজ শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধার করা আটজনের মধ্যে চারজন পুরুষ, একজন নারী এবং তিনটি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট নগরীর শাহপরান থানার মীরেরচক এলাকায় অবস্থিত রুবেল মিয়া নামে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে পাচারের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীদের আটকে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। অভিযানকালে গৃহকর্তা রুবেল মিয়া কৌশলে পালিয়ে গেলেও তাঁর স্ত্রী রেনু বেগমকে (২৮) পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রুবেল ও রেনু দম্পতি একটি পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁরা অন্য সহযোগীদের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষকে বিদেশে ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের নানা প্রলোভন দেখিয়ে সংগ্রহ করতেন।

এরপর তাঁদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে এসে জিম্মি করে রাখা হতো এবং সুযোগ বুঝে অবৈধ উপায়ে বিদেশে পাচার করা হতো। উদ্ধার হওয়া আটজনকেও একই প্রক্রিয়ায় সেখানে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।

এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, এ ঘটনায় শাহপরান (রহ.) থানায় ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। আটককৃত আসামি রেনু বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চক্রটির মূল হোতা রুবেল মিয়াসহ পলাতক অন্য সদস্যদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।