সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানের তিনটি ডেগ (বিশাল হাঁড়ি) সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাজারের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলোর নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে ডেগগুলো সিলগালা করা হয়েছে। এ সময় বড় একটি প্রধান দানবাক্সসহ ছোট আরও কয়েকটি দানবাক্স মাজারের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা বলেন, ‘মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা এই বাক্সগুলোতে জমা হবে। পাশাপাশি এগুলোর নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা থাকবেন।’
এর আগে গত শুক্রবার সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দানবাক্সে তালা দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে। এই সময়ে দানের উৎস, ব্যয়ের খাত ও সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার চিত্র পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় মো. সারওয়ার আলম আরও বলেন, ভবিষ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ ও নিয়মিত অডিটের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।