হোম > সারা দেশ > সিলেট

তরুণ প্রকৌশলীর সৌরবিদ্যুৎ যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

মোহাম্মদ উজ্জ্বল, মহম্মদপুর (মাগুরা) 

সোলার প্যানেলে পানি দিচ্ছেন আখতারুজ্জামান। সম্প্রতি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিজের বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। এখন সেই চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করছেন। তবে সেটা ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করছেন তিনি।

এই ঘটনা ঘটেছে মাগুরায়। ওই তরুণের নাম মো. আখতারুজ্জামান। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। কথা বলে জানা যায়, এই তরুণ পড়াশোনা করেছেন ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাড়ির প্রয়োজনে ২০২৩ সালে ঢাকার নবাবপুর থেকে নয়টি সোলার প্যানেল সংগ্রহ করেন। প্রতিটি প্যানেলের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৫৫০ থেকে ৬৩০ ওয়াট। প্যানেলগুলো স্থাপন করেন বাড়ির ছাদে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন।

আখতারুজ্জামান জানান, তাঁর এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪.৯ কিলোওয়াট বা ৪ হাজার ৯০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। অনগ্রিড ইনভার্টার প্রযুক্তির সাহায্যে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ শুরু থেকেই নিজের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ ইউনিট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মেইন গ্রিডে সরবরাহ করেছেন তিনি। প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকা দরে মাসে তাঁর আয় হচ্ছে ৭ হাজার ৩৫০ টাকা।

আখতারুজ্জামান আরও বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

বাড়িতে বিদ্যুৎ কীভাবে বিক্রি করেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখতারুজ্জামান বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য নেট মিটারিংয়ের প্রয়োজন হয়। এ জন্য তিনি একটি প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। এই প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘সালেহা অয়েল মিল’। এই প্রতিষ্ঠান দিয়ে মিটারিং করেন আখতারুজ্জামান। এরপর সেই বিদ্যুৎ যায় জাতীয় গ্রিডে।

উদ্যোক্তা আখতারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বর্তমান সরকারও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ পেলে ভবিষ্যতে এই প্রজেক্টকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।’

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় সোলারের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রজেক্ট। আখতারুজ্জামান স্থাপিত সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে কিছুটা অবদান রাখছেন। তাঁর এই উদ্ভাবনী প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই। এমন উদ্যোগ অন্যদেরও উৎসাহিত করবে।’