‘আগামীর বাংলাদেশ তারেক রহমান চালাইতে পারবে না। উনার ছয় মাসে উনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, উনি বাংলাদেশ চালানোর পরীক্ষায় ফেল করেছেন। যে পরীক্ষায় ফেল করেছেন, এই পরীক্ষায় আর তাঁকে দ্বিতীয় বার বসানো উচিত না। বাংলাদেশ নামের বাসটির ড্রাইভার যদি ১৮ কোটি মানুষকে নিয়ে এক্সিডেন্ট করে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ আজ শুক্রবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত জুলাই পথসভা কর্মসূচিতে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘আমাদের ইজ্জত নিয়ে আপনি ছিনিমিনি খেলছেন, আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি ছিনিমিনি খেলছেন, আমাদের মা-বোনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি ছিনিমিনি খেলছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান, পুরো বাংলাদেশে আপনি নিতে পারেন, তবে নাসীরুদ্দীনকে কখনোই আপনি আপনার পকেটে নিতে পারবেন না।’
সেই সঙ্গে বিএনপি প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আন্দোলনে দলটির উপস্থিতি অস্বীকারের সুযোগ নেই, তবে পাঁচ তারিখের পরে লুটপাটগুলা তাঁরা করেছিল, এটাও তাঁদের অস্বীকার করার জো নাই।’ তিনি সিএনজি স্ট্যান্ড, বাস স্ট্যান্ড ও বাজারঘাট দখলের অভিযোগও তোলেন বিএনপির বিরুদ্ধে। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক উবায়েদ আহমেদকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন পাটওয়ারী।
একই পথসভায় সারজিস আলম বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলা হয়েছে, কিন্তু মৌলভীবাজারে ছাত্রদল তাঁদের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনি ছাত্রদল কেন, আপনি আরেকটা ফেরাউন হলেও আপনার বিরুদ্ধে আমরা কথা বলব, ইনশাআল্লাহ। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
হবিগঞ্জের ঘটনার বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট তথ্য আছে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলেরও সবাই এটাকে সমর্থন করে নাই। ওইখানকার যে এমপি গউস, তিনি এবং তাঁর হুকুমে যারা চলে, ছাত্রদলের ওই অংশটা ওই জায়গায় নগ্নভাবে সন্ত্রাসীদের মতো আমাদের ওপর হামলা করেছে।’
সারজিস আলম আরও বলেন, ‘আমাদের আগামী লড়াইটা দলীয় লড়াই না। এটা বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতের লড়াই না। এই লড়াইটা হচ্ছে ভালো আর মন্দের মধ্যে লড়াই। ন্যায় আর অন্যায়ের মধ্যে লড়াই।’
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির রাজনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কবর রচিত হয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেই দল ১৭ বছর জুলুমের শিকার, যেই দল আমার সঙ্গে জুলাইয়ে একসঙ্গে আন্দোলন করল, সেই দল যদি নতুন করে স্বৈরাচার হয়ে উঠতে চায়, আমরা বলে দিচ্ছি, আমরা সেই দলকে স্বৈরাচার হইতে দেব না।’
সভায় বিশেষ অতিথি হয়েছে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু। আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সিলেট জেলার আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ, জেলার সদস্যসচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ, মহানগরীর সদস্যসচিব কিবরিয়া সারোয়ার এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক উবায়েদ আহমেদ।