দেশের গতিমুখ আর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সিলেট জেলা শাখার নেতারা।
বাসদ নেতারা বলেন, দেশের জনগণ বারবার শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ পেতে রাজপথে অভ্যুত্থানের জন্ম দিয়েছে। ৫২, ৬২, ৬৯-এর অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় ১৯৯০ সালের অভ্যুত্থানে সরকার পতন হয়েছিল। সবশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান সমাজ বদলের লক্ষ্যে আশান্বিত করে তুলেছিল। কিন্তু আজ দুই বছর পর দেশের গতিমুখ আর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করছে।
আজ বুধবার দুপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সিলেট শহরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাসদ নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক দাসত্বের বাণিজ্য চুক্তি করে গিয়েছে, যা বর্তমান সরকারও বহাল রেখেছে। এই চুক্তি দেশের শিল্প, কৃষি, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ধ্বংস ও জাতীয় নিরাপত্তা-সার্বভৌমত্ব হুমকিতে ফেলবে। দেশের ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে সরকার বেসরকারি খাতে নামমাত্র দামে বিক্রি করে দিচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রামের নিউমুরিং টার্মিনাল দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ৪৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রিত হয়। এই বন্দর টার্মিনাল প্রথমে শেখ হাসিনা ও পরে অন্তর্বর্তী সরকার ইজারা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বামপন্থীদের এবং শ্রমিক-প্রগতিশীল ব্যক্তিদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে। এখন বর্তমান সরকারও এই বন্দর টার্মিনাল ইজারা দিতে চাইছে। সরকার দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশীয় শিল্প-কর্মসংস্থান ধ্বংস করার চুক্তি বাস্তবায়ন করছে।
সমাবেশে বাসদের সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু জাফরের সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্য জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা সদস্য নাজিকুল ইসলাম রানা, জহর সিংহ, শহীদ আহমদ, মাহফুজ আহমদ, মিজান মিয়া, রিধি সিং, সজিব আহমদ প্রমুখ। তাঁরা ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধ, সিলেট নগরীতে ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক ও হয়রানি বন্ধেরও আহ্বান জানান।