সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সমিতির নির্বাচন ঘিরে এক প্রার্থীসহ দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। আহত দুজনের মধ্যে একজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে বিষয়টি একান্তই বিভাগকেন্দ্রিক বলে দাবি সিকৃবি ছাত্রদল আহ্বায়কের।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত দুজন হলেন: বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবদুর রহমান রাঈদ ও সাফকাত তাহসিন। আর অভিযুক্তদের একজন রাজেশ বাছাড় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য এবং সাহসসহ অন্যরা ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা যায়।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের পৃথক ছাত্র সমিতির নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। নির্বাচনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও প্রার্থী হয়েছেন। গত সোমবার বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সমিতির ভিপি ও জিএস পদ ছাড়া অন্য পদগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভিপি ও জিএস পদে চারজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে নির্বাচিত করার কথা রয়েছে। এখানে প্রার্থী হওয়া নিয়ে আজ দুপুরে টিএসসি এলাকায় ভিপি প্রার্থী মো. আবদুর রহমান রাঈদ এবং সাফকাতের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা রাজেশ ও কর্মী সাহসসহ কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাফকাতকে ছাত্রলীগ আখ্যা দিয়ে রাজেশ ও সাহসসহ কয়েকজন মিলে দুজনকেই মারধর করেন। পরে আহত দুই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর আবদুর রহমান রাঈদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত সাফকাত তাহসিন জানান, ছাত্র সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে আজকে তাঁরা আমাদের ওপর হামলা করে। এর আগেও তাঁরা বলেছে, শুধুমাত্র ছাত্রদলের হয়ে কাজ করতে হবে। তখন আমরা সম্মতি না জানালে তাঁরা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। যার কারণে আজকে আমরা অফিসে গেলে তাঁরা আমাদের পথরোধ করে কথা-কাটাকাটি করে। পরে হামলা করে।
সাফকাত তাহসিন অভিযোগ করে বলেন, দিনদুপুরে সবার সামনে এই ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন বলছে, এ ঘটনার নাকি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। তখন নাকি বিদ্যুৎ ছিল না।
এ বিষয়ে বারবার কল দিলেও অভিযুক্ত রাজেশ বাছাড়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সানাউল হোসেন বলেন, ‘একই বিভাগের দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি হয়েছে। একপক্ষ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা, অপরপক্ষ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও গুপ্ত সংগঠন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এ টি এম মাহবুব-ই-ইলাহী বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ডিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ছাত্রপরামর্শক, প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য, আইন উপদেষ্টা এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন। কমিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে সুপারিশ দেবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।