সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যদের ওপর চোরাকারবারিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিজিবি সদস্যসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার গৌরীশংকর টিপরাখোলা এলাকায় বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। বিজিবি প্রতিরোধ করতে গেলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিজি সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ বিজিবি সদস্যদের উদ্ধার করে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। তবে এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) জৈন্তাপুরে চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামাসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে বিজিবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৭টার দিকে জৈন্তাপুর থানাধীন নিজপাট ইউনিয়নের টিপরাখলা ঘুড়িমারা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেইন পিলার ১২৮৮ থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছয়টি চোরাই গরু আটক করেন জৈন্তাপুর রাজবাড়ী বিওপির সদস্যরা। ওই সময় হাবিলদার মো. কামাল হোসেন (৪৭), ল্যান্স নায়েক মো. ওমর ফারুকসহ পাঁচ-ছয়জন বিজিবি সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ল্যান্স নায়েক মো. ওমর ফারুক আহত হন। এই ঘটনায় জৈন্তাপুর থানায় বিজিবি বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে।
এই ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে জৈন্তাপুর থানাধীন গৌরীশংকর টিপরাখোলা এলাকায় টহলরত পাঁচ-ছয়জন বিজিবি সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় চোরাকারবারিদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে এক বিজিবি সদস্য মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
জানা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাত আনুমানিক পৌনে ১০টায় বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়েন। অপর দিকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিজিবির বিরুদ্ধে সাধারণ জনতাকে উসকে দেয় চোরাকারবারিরা। একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. আতিক আহমেদ (২০) নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত অন্য ব্যক্তিরা হলেন মো. রায়হান মিয়া (২৮), নুরজাহান (৫০) ও জৈন্তাপুর রাজবাড়ী বিওপির বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলম (৪৩)। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত ব্যক্তিদের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে মো. আতিক ও বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলমকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। গুলিবিদ্ধ আতিক গৌরীশংকর গ্রামের মৃত নূর নবীর ছেলে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতাল এলাকা এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) সালমান নূর আলম ও জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও হরিপুর গ্যাসফিল্ড সেনা ক্যাম্পের (২৭ বীর) সেনাবাহিনীর টহল দল উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাঁরা বিজিবি সদস্যদের উদ্ধার করে বিওপিতে পৌঁছে দেন।