সিলেটে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে এক যুবককে অপহরণের চেষ্টাকালে এক প্রাইভেট কারচালককে ধরে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত ও ভিকটিম কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময় ওই প্রাইভেট কার ভাঙচুর করা হয়।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার পাঠানটুলা জামেয়ার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আটক প্রাইভেট কারেরচালক সামাদ (২৬) সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার ছালিয়া এলাকার ময়না মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, সিলেট নগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকা থেকে ইমরান হোসেন (১৯) নামে এক কিশোরকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারে তুলে নেন তিনজন। পরে তাঁকে নিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ রোডের আম্বরখানার দিকে আসলে মদিনা মার্কেট এলাকায় ওই কিশোর চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন গাড়িটি আটকে দেন। এ সময় গাড়িতে থাকা দুজন পালিয়ে গেলেও চালক পালাতে পারেননি। তাঁকে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন।
আহত অবস্থায় চালক সামাদ ও ভিকটিম ইমরান হোসেনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে দুজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল হাবিব। তিনি জানান, আটক চালকের স্বীকারোক্তি যে, ওই কিশোরের সঙ্গে একটি মেয়ের সম্পর্ক ছিল। এটা মেয়ের পরিবার জেনে থানায় একটি জিডিও করে। কিশোরের কাছে মেয়ের ছবি রয়েছে এমন সন্দেহে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যাতে করে সব ছবি ডিলিট করা যায়। ভিকটিমকে মারধর করা হয়েছিল এবং চালক গণপিটুনির শিকার হয়। বর্তমানে দুজনেই পুলিশের অধীনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পলাতক দুজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতিও চলছে।