সিলেট নগরীর ইমপালস টাওয়ারের ভূমিসংক্রান্ত মামলার বাদী ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি।
আজ সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সমন্বয়ক মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট রায়নগরের ১১১ মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। নিহত আবদুস সাত্তার নগরীর রিকাবীবাজারের পুলিশ লাইনের লুসাই গির্জা সমিতির কাছ থেকে লিজ নেওয়া জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের মামলার বাদী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। ওই জমিতে ইমপালস টাওয়ার নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ভূমি নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে বিরোধ চলছে। আবদুস সাত্তার ও তাঁর পরিবার ওই ভূমির একটি অংশ লিজ নিয়ে বসবাস করছিলেন। পরে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে ইমপালসের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ইমপালস টাওয়ারের পাশের জমিতেই আবদুস সাত্তার বসবাস করতেন। ভূমি বিরোধের জেরে আবদুস সাত্তারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
২০২৫ সালের ১৮ মে আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনায় আবদুস সাত্তার ও তৌহিদুল ইসলাম আহত হন। এ ঘটনায় করা মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। হুমকির বিষয়ে সাত্তারের পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ করা, তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ইমপালস টাওয়ার-সংক্রান্ত ভূমির নথি যাচাইসহ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লিজগ্রহীতা নাজমুল ইসলাম, শামছুল ইসলাম শাহীন ও সোহেল আহমদ।