বছরের পর বছর ধরে কেবল একটাই সাধনা করে গিয়েছেন। আর তা হলো, শিশুদের অন্তরে শিক্ষার আলো জ্বেলে দিয়ে তাদের মনকে উদার আর জীবনকে গড়ে তোলার সাধনা। কিন্তু এক সময় বেলা ফুরায়। জীবনের নিয়মে চিরচেনা পরিবেশ থেকে বিদায় নিতে হয়। বিদায়বেলা তাই সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের অশ্রুসিক্ত চোখ আর শ্রদ্ধা ভরা চাহনিই তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া হয়ে ওঠে।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গৌরীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র শর্ম্মার অবসর গ্রহণ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তিনি শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, এই অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়ানো এক “আলোকবর্তিকা” ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এলাকাবাসী এবং সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলেন।
গৌরীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তানিয়া বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রবিন মিয়া। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী হয়তো তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটছে, কিন্তু শিক্ষকতার মতো মহান ব্রত থেকে একজন শিক্ষক কখনোই অবসরে যান না। অনিল বাবু দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে নিজের মেধা, শ্রম ও সততা দিয়ে গৌরীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আজ এই বিদ্যালয়ের যে সুনাম ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য আমরা দেখছি, তার পেছনে রয়েছে স্যারের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবেসে আলোর পথ দেখিয়েছেন। আশা রাখি ভবিষ্যতেও শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠের সুনাম অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে মানপত্র পাঠ করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সকিনা বেগম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জনা রানী রায়।
গৌরীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টিটু কুমার দে, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র চন্দ্র দাস, প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবুল খায়ের এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আজমল আলী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য আমির উদ্দিন, গৌরীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী লবীব আহমদ ও সুজেল আহমদ, ফুলকুঁড়ি আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক আলী আফজল এবং বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরী।
বিদায়লগ্নে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অনিল চন্দ্র শর্ম্মা বলেন, ‘শিক্ষকতা কেবল আমার পেশা ছিল না, এটি ছিল আমার জীবনের ব্রত। দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মী, অভিভাবক এবং প্রিয় শিক্ষার্থীদের যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তা আমার বাকি জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্বল হয়ে থাকবে। আমি অবসরে গেলেও এই বিদ্যালয়ের সাফল্য সবসময় কামনা করব।’