সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর সৎ তিন ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তার।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিরাই আমলগ্রহণকারী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তিনি। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পেশকার মোহিত লাল চন্দ।
মামলায় আসামি করা হয়েছে নাছির চৌধুরীর সৎ ছোট ভাই ও দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী), মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরীকে। অন্য আসামিরা হলেন—দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ারকাপন গ্রামের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মমতাজ বেগম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অসুস্থ নাছির চৌধুরীর গলায় ‘রামদা’ ধরে ভয় দেখিয়ে তাঁর বাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে নাছির চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে বাদী পারভিন আক্তার মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, নাছির চৌধুরীর বাড়িসহ সম্পত্তি থেকে তাঁর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আসামিরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আসছিলেন। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে অফিসার সাজিয়ে অসুস্থ ও অক্ষম নাছির চৌধুরীকে দলিলে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, নাছির চৌধুরী দলিলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
দিরাই আমলগ্রহণকারী আদালতের বিচারক মো. জসিম মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)কে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে নাছির চৌধুরীর ছোট ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী) বলেন, ‘পারিবারিক কিছু ঝামেলা আছে। মামলার বিষয়টি জানার পর আইনিভাবেই জবাব দেওয়া হবে।’