সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চার দিন পর তালাবদ্ধ ঘর থেকে আছিয়া বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথপুর পৌরসভার ইনাতনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আছিয়া বেগম ওই এলাকার মৃত খালিক মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে ওই বৃদ্ধা আছিয়া বেগম বাড়িতে একা থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসার জন্য জেলা শহর সুনামগঞ্জে যান আছিয়া বেগম। এর পর থেকে ওই বৃদ্ধার সঙ্গে স্বজনদের কারও যোগাযোগ হয়নি। সোমবার রাতে স্থানীয়রা ওই তালাবদ্ধ ঘরটির পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় পচা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে খাটের ওপর কম্বল গায়ে অর্ধ-গলিত অবস্থায় ওই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে।
ওই বৃদ্ধা আছিয়া বেগমের মেয়ে কল্পনা বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মায়ের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। একাধিকবার মোবাইলে ফোন করেও উনাকে পাইনি। তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন।’
কল্পনার স্বামী দিলশাদ মিয়া বলেন, ‘আমার শাশুড়ির সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতাও ছিল না। তবে উনার কাছে চিকিৎসার জন্য নগদ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিল। আমাদের ধারণা ওই টাকার জন্য উনাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘরটি বাইর থেকে তালা দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই মহিলার দেহের বেশ কিছু অংশ পচে গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হবে।’