হোম > সারা দেশ > সুনামগঞ্জ

পৌষের বৃষ্টিতে কৃষকের স্বস্তি

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

পৌষের বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের কৃষকদের মধ্যে। বোরো আবাদের উপযুক্ত সময় এখন। কিন্তু হাওর থেকে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে সেচের সংকট। গত দুই দিন ধরে সকালে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় সেচসংকটের দুশ্চিন্তা কমেছে। তবে হাওরে এখনো বাঁধের কাজ পুরোপুরি শুরু না হওয়ায় শঙ্কায় আছেন কৃষকেরা।

হাওরপাড়ের কৃষকেরা জানান, এবার হাওর থেকে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় বোরো চাষে পানির সংকট দেখা দেয়। আবাদের শুরুতেই শঙ্কিত হয়ে পড়েন কৃষকেরা। গতকাল ভারী বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এর মধ্যেই হাওরের নিচু এলাকায় বোরোর চারা রোপণ চলছে।

মইয়ার হাওরের কৃষক সোয়া মিয়া বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতেই হাওরে পানির সংকট ছিল। হঠাৎ করেই পৌষের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় এখন কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।’

আরেক কৃষক আছাদ মিয়া বলেন, ‘অনেকেই খেতে সেচের জন্য পানি সংগ্রহে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বৃষ্টির দেখা পেয়ে কৃষকদের মধ্যে হাসি ফুটেছে। তবে হাওরে এখনো বেড়িবাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি।’

হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর থেকে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাওরে একটি বাঁধের কাজ উদ্বোধন করার ১১ দিন পার হলেও হাওরের কোথাও কোনো প্রকল্পে কাজ শুরু হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকেরা।

পাউবো জানায়, গত বছর ২৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে জগন্নাথপুরে ১৫ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজ করা হয়। এবার বন্যায় ফসলরক্ষা বাঁধের ক্ষতি হওয়ায় কমপক্ষে ৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে ৭৫ কিলোমিটার বাঁধের কাজের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর নলুয়া হাওরের পোল্ডার ১-এর আওতাধীন দাসনোয়াগাঁও এলাকায় ৪ নম্বর প্রকল্পের বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে।

তবে ৪ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি রণধীর কান্ত দাস নান্টু বলেন, হাওরের মাটি এখনো শুকায়নি। কাঁচা মাটি থাকায় মাটি কাটার গাড়ি প্রকল্প এলাকায় নামানো যাচ্ছে না। এর জন্য কাজ বন্ধ। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।

পাউবোর জগন্নাথপুর উপজেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, এবার ৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জগন্নাথপুরে ৭৫ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে ৩৮টি প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, হাওরের যেসব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে, সেসব স্থানে আমরা পাম্পের ব্যবস্থা নেব। বোরো আবাদের সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ফসলের জন্য উপকারী।

এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, জগন্নাথপুরে এবার ২১ হাজার হেক্টর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

হাওরের ফসল: বাঁধে ভাঙন কম, রক্ষায় তবু বেড়েছে বরাদ্দ

সুনামগঞ্জ-৩ আসন: স্বজনদের টাকায় নির্বাচনী ব্যয়

হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে ধীরগতি, শঙ্কায় কৃষক

হাসন রাজার ১৭১তম জন্মদিন আজ

অটোরিকশার স্ট্যান্ড ও ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩০

জগন্নাথপুরে চিকিৎসা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: প্রকল্প স্থানান্তরে ক্ষোভ

সুনামগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

হাওরের ফসল রক্ষা: বাঁধের কাজে কচ্ছপগতি

কুশিয়ারায় গোসল করতে নেমে নারী নিখোঁজ