সুনামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা মামলায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবারের মিছিলের ভিডিও ফুটেজ দেখে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বড়পাড়া এলাকার সবুজ মিয়ার ছেলে মাহমুদুল হাসান ফারদিন (২০) এবং পশ্চিম তেঘরিয়ার জুবায়ের আহমদের ছেলে সালেহ আহমদ ফাইয়াজ (২৭)। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হলে সুনামগঞ্জ সদর আদালতের বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হাজীপাড়ায় সার্কিট হাউসের সামনে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে আসামিরা একত্রিত হন। পরে তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আসামিরা পালিয়ে যান।
মামলায় আসামি করা হয়েছে—নিষিদ্ধঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন, সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান সদস্য অ্যাডভোকেট মো. খায়রুল কবির রুমেন (৫৯), জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে (৩২), সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন (৩৩), উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ (২৮), জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক মেহেদী হাসান সাকিব (২৫), সহসভাপতি শামসুল আবেদীন রাজন (২৭), অরিন্দম মৈত্র অমিয় (৩০), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ (৩০), সহসভাপতি আবু তালহা মিতুল (২৮), সহসভাপতি আতাউল হক সানি (৩০), সাবেক সহসভাপতি পাবেল আহমেদ (৩৮), সহসভাপতি সুয়েব আহমদ চৌধুরী (৫০), ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার (৩৫), ফেনারবাঁক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাফিউদ্দুয়া (৩৫), সহসম্পাদক পরাণ চৌধুরী (৩১), জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তানভীর (৩২), টিংকু চৌধুরী (৩৬), ইয়াকুব (৩২), বরুন (৩৮), সুনামগঞ্জ পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বখতিয়ারুল হক মাহি (২৩), ইয়াকুব শরীফ রিফাত (৪০), গোলাম কাদের সুজন (৪১), অলিউর রহমান (২৮), জিয়াবুল (৩৫), আল-আমিন (৩৫), জেলা শাখার বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আছকির আলী (৪০), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাফায়াত জামিল (২৮), জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনাম আহমেদ (৪০), জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ (৪২), আল আমিন (৩২), হেলাল মিঞা (৩৫), সুনামগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি শিহাব (২৮), বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাহাত আহমদ (২৭), জাহাঙ্গীরনগর ইউপি আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রমজান (৪৮), জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুব্রত তালুকদার সেতু (৪৫), সুনামগঞ্জ সদর মৎস্যজীবী লীগের সহসভাপতি রিগান আহমেদ (৩৭), জাহাঙ্গীরনগর ইউপি আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বোরহান উদ্দিন চৌধুরী (৪৫), সুনামগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি শাহনুর (৪৮), জাহাঙ্গীরনগর ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ (৩৮), কাঠইর ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান (৪৫), এহসান উল্লাহ প্রকাশ মো. উজ্জ্বল আহমদ (৩৯), তুষার (২২), অমল চৌধুরী হাবলু (৫৫), সাংগঠনিক সম্পাদক নিহান (২৫), সাবেক ছাত্রলীগ সদস্য আক্তারুজ্জামান (৩৫), ফুয়াদ আহমেদ (৩৮), সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ উদ্দিন (৩৫), সামন্ত চন্দ্র দাস (৪০), সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক (৪৯), ফারুক আহমেদ সুজন (২৮), আনন্দ (২১), ইশতিয়াকুর রহমান দিনার (১৪), তানজিন (২২), হাবিব আহমদ (২৩), আবু বক্কর সিদ্দিক (২৩), রাহাত (২৫) ও মো. আক্তার হোসেন (২৮)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ বলেন, বৃহস্পতিবারের মিছিলের ভিডিও ফুটেজ দেখে সালেহ আহমদ ফাইয়াজ ও মাহমুদুল হাসান ফারদিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ মামলাটি দায়ের করে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।