সুনামগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি আসির মিয়াকে (৩২) ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরের পানসি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসির মিয়া শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ধামোদরতপী গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, মারামারি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে ধামোদরতপী এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে শান্তিগঞ্জ থানা-পুলিশ। পরে তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে তাঁর স্বজনেরা পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে হাতকড়া পরা অবস্থায় আসির মিয়াকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজেকে অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দেন আসির মিয়া। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ হাতকড়াটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও আসিরকে আটক করা যায়নি।
এ ঘটনায় পুলিশ ও আসামিপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে আসির মিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগও ওঠে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজির উদ্দিন বলেন, আসির মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মারামারির মামলা রয়েছে। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলেও স্বজনদের বাধার মুখে হাতকড়াসহ তিনি পালিয়ে যান। পরে হাতকড়া উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তাঁকে আটক করা যায়নি।
ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান, এসআই মুকুল খান, এএসআই খাদেম ও রোশন এবং সদর থানার এসআই জহির হোসেন অংশ নেন। পরে পানসি রেস্টুরেন্ট থেকে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।