সুনামগঞ্জে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিদ্রোহীরা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একদিকে জামায়াতকে মোকাবিলা অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নেতারা। জেলার পাঁচ আসনের মধ্যে তিনটিতে দ্বিমুখী এবং দুটিতে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
সুনামগঞ্জ-১, ২ ও ৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। আর সুনামগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনে বিএনপি, জামায়াত জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠতে পারে। এই লড়াইয়ে বড় নিয়ামক শক্তি হয়ে উঠতে পারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট।
জেলায় মোট ভোটার ২০ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ জন। উঠান বৈঠক ও সভা-সমাবেশের মধ্য দিয়ে তাঁদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও জোরেশোরে প্রচার চালানো হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ-১: জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর নিয়ে গঠিত আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল এবং জামায়াতের মাওলানা তোফায়েল আহমদের মধ্যে। এর বাইরে নেজামে ইসলাম থেকে বই প্রতীকে নির্বাচন করছেন মুজাম্মিল হক। আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন আনিসুল হক। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত মনোনয়ন পান কামরুজ্জামান কামরুল। তাঁর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নেতা-কর্মীরা।
সুনামগঞ্জ-২: দিরাই ও শাল্লা নিয়ে গঠিত আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের হেভিওয়েট নেতা আইনজীবী শিশির মনির। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী। দুজনের পক্ষেই প্রচারে নেমেছেন নেতা-কর্মীরা। ভোটাররা বলছেন, মূলত তাঁদের দুজনের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এর বাইরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে নির্বাচন করছেন নিরঞ্জন দাস।
সুনামগঞ্জ-৩: জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ নিয়ে গঠিত প্রবাসী-অধ্যুষিত আসনটিতে নির্বাচন করছেন সাতজন। ধানের শীষের প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা)। এ জোটের আরেক দল এবি পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল)। এ ছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আনোয়ার হোসেন (তালা)।
বিএনপির ‘বঞ্চিত বলয়’ স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনকে সমর্থন দেওয়ায় বেকায়দায় পড়তে পারেন ধানের শীষের প্রার্থী। স্থানীয়দের ধারণা, বিএনপির এই অনৈক্যের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে জামায়াত-সমর্থিত ১০ দল। সে ক্ষেত্রে কপাল খুলতে পারে জোটের প্রার্থী শাহীনুর পাশা চৌধুরীর।
সুনামগঞ্জ-৪: সদর ও বিশ্বম্ভরপুর নিয়ে গঠিত আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুল। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন হাসন রাজার বংশধর দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (মোটরসাইকেল)। বিএনপির বহিষ্কৃত এই নেতার নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শামছ উদ্দিন। জাতীয় পার্টি থেকে নাজমুল হুদা ও ইসলামী আন্দোলন থেকে শহীদুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আসনটিতে বিএনপিকে বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সুনামগঞ্জ-৫: ছাতক ও দোয়ারা নিয়ে গঠিত আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুস সালাম আল মাদানী। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী মো. আজিজুল হক। তবে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে।