হোম > সারা দেশ > সুনামগঞ্জ

দিনভর উদ্ধার অভিযান, প্রশাসনের সামনেই মেছোবিড়ালটি পিটিয়ে মারল স্থানীয়রা

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি  

আতঙ্কিত জনতার পিটুনিতে মেছোবিড়ালটি মারা যায়। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ‘বাঘ আতঙ্কে’ একটি মেছোবিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। গতকাল শনিবার বিকেলে পৌরসভার ছিলিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার তৎপরতায় বন বিভাগের অবহেলা, অপ্রতুল প্রস্তুতি এবং উপযুক্ত সরঞ্জামের অভাবের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

তবে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনা সম্পর্কে ভিন্ন দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (গতকাল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছিলিমপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল আহাদ চৌধুরীর বাড়ির আমগাছে প্রাণীটিকে দেখতে পান কেয়ারটেকার ফিরোজ মিয়া।

ঘটনাটি জানাজানি হতেই লোকজনের মধ্যে বাঘ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করে।

খবর পেয়ে জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মো. আনিসুর রহমান এবং জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্য ও বন বিভাগের দল দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিড় সরিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেও বন বিভাগের কার্যকর কোনো উদ্ধার উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বন বিভাগের কাছে কোনো আধুনিক সরঞ্জাম বা দক্ষ উদ্ধারকারী দল ছিল না। বন্যপ্রাণীটি ধরার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেবল একটি চটের ব্যাগ নিয়ে উপস্থিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা।

পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণীটিকে গাছ থেকে নিচে নামায়।

গাছ থেকে নামার পর প্রাণীটি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত জনতার একটি অংশ লাঠি ও টেঁটা নিয়ে প্রাণীটির ওপর চড়াও হয়। ঘটনাস্থলেই মেছোবিড়ালটির মৃত্যু হয়।

জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র সাফরোজ ইসলাম মুন্না বলেন, ‘জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতায় একটি বন্যপ্রাণীর নির্মম মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো সরঞ্জাম ছাড়া কেবল চটের ব্যাগ নিয়ে উদ্ধার করতে আসায় পরিস্থিতি জটিল হয় এবং আতঙ্কিত জনতা প্রাণীটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।’

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, প্রাণীটিকে অনেকে বাঘ ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

ইউএনও বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্রই আমি সুনামগঞ্জ জেলা বন বিভাগে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু প্রাণীটিকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত মর্মান্তিক।’

তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্ন দাবি করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান।

সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সেটি একটি মেছোবিড়াল ছিল। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বিড়ালটি গাছ থেকে নেমে জঙ্গলে ঢুকে যায়। এরপর আমরা সেখান থেকে চলে আসি। পরবর্তীতে কী হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই।’

জগন্নাথপুরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

জগন্নাথপুরে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড, ফুটপাত দখল করায় ৫ দোকানিকে জরিমানা

সুনামগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

আগের দিন স্ত্রীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা, পরদিন শয়নকক্ষ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

উজানের বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে

জগন্নাথপুরে জমি নিয়ে সংঘর্ষ, বৃদ্ধ নিহত

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ইয়াবাসহ আটক বিএনপি নেতাসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সুনামগঞ্জে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত, বন্যার শঙ্কা

সুনামগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে মা-বাবা ও ছেলের মৃত্যু

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা: অভিযুক্ত যুবক পুলিশ হেফাজতে