সিরাজগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে বিএনপির ১০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও ৫ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি করেন আহত জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর শেখের স্ত্রী শোহর বানু। মামলায় সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আসামিদের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আব্দুস সবুর শেখ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের গাড়িবহর যমুনা সেতু পার হয়ে সয়দাবাদ এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় আব্দুস সবুর শেখ দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে গাড়িবহরকে স্বাগত জানান।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা লংমার্চে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সয়দাবাদ মোড়ে অবস্থান নেন। পরে প্রশাসনের বাধার মুখে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান।
পরে জোহরের নামাজ আদায় শেষে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে সয়দাবাদ মোড় মাদ্রাসা জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় আব্দুস সবুর শেখকে আসামিরা ঘিরে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় আব্দুস সবুর শেখ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হন। তাঁকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন, আব্দুস সবুরের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। তাঁর চিকিৎসা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিককে মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, শনিবার রাতে মামলা হয়েছে। মামলার কোনো আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।