মাচাজুড়ে ঝুলছে গাঢ় সবুজ তরমুজ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ পাতার ফাঁকে ছোট ছোট বাতি জ্বলছে। বাঁশের মাচা বেয়ে ছড়িয়ে পড়েছে লতাগুলো। কোথাও ঘন সবুজ পাতা, কোথাও আবার পাকা হতে থাকা তরমুজ। খেতের ভেতরে বসে কৃষক হাসিবুর রহমানের মুখে তৃপ্তির হাসি।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাই গ্রামের কৃষক হাসিবুর রহমান (৪০)। তিন বছর আগে এনডিপির সহযোগিতায় মাত্র ১০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে থাইল্যান্ডের উচ্চফলনশীল ‘কানিয়া’ জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন তিনি। এতে তাঁর খরচ হয়েছিল ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। প্রথমবারই খরচ বাদ দিয়ে লাভ হওয়ায় তরমুজ চাষে আগ্রহ আরও বেড়ে যায় তাঁর।
এবার মুগবেলাই উত্তরপাড়ায় প্রায় ২০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন হাসিবুর। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে এবার এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
সম্প্রতি তাঁর খেতে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের মাচায় ঝুলছে অসংখ্য তরমুজ। ফলের ভারে কোথাও কোথাও লতা নুয়ে পড়েছে।
হাসিবুর রহমান বলেন, এবার তাঁর খেতে প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ মণ তরমুজ উৎপাদন হতে পারে। বর্তমানে প্রতি কেজি ‘কানিয়া’ তরমুজ ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারদর ভালো থাকলে এক লাখ টাকার বেশি লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
কানিয়া জাতের তরমুজে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম বলে জানান হাসিবুর। তাঁর ভাষ্য, মালচিং পেপার ব্যবহার করে মাচা পদ্ধতিতে চাষ করায় মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় এবং আগাছাও কম হয়। এতে পরিচর্যায় শ্রম ও খরচ—দুটিই কমে আসে।
চারা রোপণের ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যেই তরমুজ বাজারজাত করা যায় বলেও জানান তিনি। হাসিবুর বলেন, ‘তরমুজ দেখতে সুন্দর, খেতেও রসালো ও মিষ্টি। বাজারে চাহিদা ভালো, দামও পাওয়া যায়। তাই অল্প সময়ে ভালো লাভ করা সম্ভব।’
তবে শুরুতে কৃষি অফিস থেকে তেমন সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন হাসিবুর। মাঠপর্যায়ে কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ বাড়ানোর দাবি তাঁর।
কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন বলেন, ‘হাসিবুরের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আধুনিক মালচিং ও মাচা পদ্ধতিতে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’