সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ধুকুড়িয়া গ্রামের কৃষক লিটন মণ্ডল একই জমিতে ‘নয়ন কাজল’ জাতের বেগুন ও সাথি ফসল হিসেবে লাউ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। বিষমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষ করে স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় তাঁর মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। তাঁর এই সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকেরাও এ ধরনের চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
গতকাল সোমবার ধুকুড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, লিটনের ৪০ শতক জমিতে বেগুনগাছের সারি। গাছের ডালে ডালে ঝুলছে উজ্জ্বল রঙের ‘নয়ন কাজল’ বেগুন। রাসায়নিক কীটনাশক ও অতিরিক্ত সারের পরিবর্তে তিনি ব্যবহার করেছেন ভার্মি কম্পোস্টসহ বিভিন্ন জৈব সার। বীজ বপন, মাচা তৈরি ও পরিচর্যাসহ তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।
লিটন মণ্ডল জানান, নয়ন কাজল বেগুনের চাহিদা ভালো। প্রতি সপ্তাহে খেত থেকে ৮ থেকে ১০ মণ বেগুন তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আয় করছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
বেগুনের পাশাপাশি জমির আইল ও সীমানায় ‘হাজারি লাউ’ লাগিয়েছেন লিটন। আলাদা করে বেশি খরচ না করেই বেড়ে উঠছে লাউগাছ। ফলে মূল ফসলের সঙ্গে সাথি ফসল থেকেও বাড়তি আয় হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, লিটনের জমিতে বেগুনের ভালো ফলন দেখে তাঁরাও আগামী মৌসুমে নয়ন কাজল বেগুন ও সাথি ফসল চাষের পরিকল্পনা করছেন। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেলে এ ধরনের চাষ আরও ছড়িয়ে পড়বে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন বলেন, জৈব পদ্ধতিতে নয়ন কাজল বেগুন চাষের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে লাউ চাষ একটি ভালো উদ্যোগ। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে নিতে লিটনকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।