স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, গত ১০ বছরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যা হওয়ার কথা ছিল, তার অনেক কিছুই হয়নি। এটি শুধু রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র নয়, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। প্রকৃত উন্নয়নের পরিবর্তে নাম ও সাইনবোর্ড বদলেই সীমাবদ্ধ ছিল অনেক উদ্যোগ। আর এসব ব্যর্থতার কারণেই জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এম এ মুহিত এসব কথা বলেন।
এম এ মুহিত বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় তরুণদের নতুন জীবন ও নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই তো শাহজাদপুরের তরুণেরাও রাজপথে নেমেছিল।’
এম এ মুহিত আরও বলেন, আজকের এই আয়োজন পরিবর্তনের বার্তা বহন করছে। জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। অতীতের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার দায় এখন আমাদের কাঁধে এসেছে। তবে আমরা ভীত নই। কারণ শিক্ষার্থীরা ন্যায় ও সত্যের পক্ষে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, সেটিই আমাদের আশাবাদী করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বারবার শিখিয়েছেন, অন্ধকার যত গভীরই হোক, আলো আসবেই। শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সেই আলোর পথ তৈরি হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রসঙ্গে এম এ মুহিত বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু জটিলতার কারণে কাজ আটকে আছে। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও ধৈর্য প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর তাহমিনা আখতার।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম এবং জেড নিউজের সম্পাদক আমিরুল ইসলাম কাগজি।